পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় বসার আগে কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা—এই দুইটি শর্ত পূরণ না হলে আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ কথা জানান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান সৎভাবে আলোচনায় অংশ নিলে ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। তিনি পাকিস্তানে যাওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে কুয়েত জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব ঘটনার কারণে আসন্ন আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, এবং লেবাননে চলমান সংঘাত—এই বিষয়গুলোতেই মূল বিরোধ রয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে একটি ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যে সেই শর্তগুলো নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা