বিএনপি ক্ষমতায় বসে সবে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক বসিয়েছে, ফলে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশু নির্বাচনের কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। তার মধ্যেই পাঁচটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে বসল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্য কোনো দলের যখন এ নিয়ে কোনো তৎপরতা নেই, তখন নতুন দলটির প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সিটি নির্বাচন ঘিরে আগাম প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দলটির নেতারা বলেন, এর প্রধান কারণ হলো নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে রাখা। এছাড়া প্রার্থীদের আগেই জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংগঠন গোছানোর বিষয়ও আছে। এনসিপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেহেতু রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই, তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৌশল হিসেবে জামায়াত মডেল
এনসিপির এক নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরখানেক আগে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে রেখেছিল, যার ইতিবাচক প্রভাব ফলাফলে দেখা গেছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এনসিপি আগেভাগে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি সিটির নাম ঘোষণা করা হলেও বাকি সাত সিটি এবং উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীও চলতি এপ্রিলের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।
"দেশে এখন নির্বাচনের পরিবেশ আছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারকে কবজায় নিয়ে বিএনপি প্রশাসক বসাচ্ছে। আমরা ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ে নির্বাচন দাবি করেছি। সেই দাবির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি।"
— আখতার হোসেন, সদস্যসচিব, এনসিপি।
একক না জোটগত নির্বাচন?
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টিতে জয় পায় দলটি। আসন্ন সিটি নির্বাচনেও এনসিপি জোটগতভাবে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনসিপির নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, আপাতত এককভাবে প্রস্তুতি নিলেও জোটগত সমঝোতা হলে অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে সমঝোতা না হলে এককভাবেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল সংসদে পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আইনগুলো পাসের পর সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো