সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন জনসভায় ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য (Hate Speech) এবং ঘৃণাজনিত অপরাধ (Hate Crime) বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ওড়িশা স্টেট ল কমিশন একটি নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। উড়িষ্যা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বনাথ রথের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রস্তাবিত শাস্তির বিধান:
- প্রথমবার অপরাধ: ১ থেকে ৫ বছরের জেল এবং ১০,০০০ টাকা জরিমানা।
- পুনরাবৃত্তি করলে: ২ থেকে ৭ বছরের জেল এবং ৫০,০০০ টাকা জরিমানা।
- ভুক্তভোগীদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই খসড়া বিলে।
কমিশনের পক্ষ থেকে ‘Hate Speech and Hate Crime (Prevention) Act 2026’ নামক একটি খসড়া বিল রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখানে ‘হেট স্পিচ’-কে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—যা মৌখিক, লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা, শত্রুতা বা সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়।
কেন এই আইনের প্রয়োজন?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওড়িশায় সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং গণপিটুনির (Mob Lynching) ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের রিপোর্টে গরু পাচার বা জবাই সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনার তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে প্ররোচনামূলক বা ঘৃণাভরা বক্তব্য।
সুপারিশ অনুযায়ী, পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে কোথাও ঘৃণাজনিত অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাঁরা ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩’-এর আওতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এছাড়া কোনো সংস্থা এই অপরাধ করলে তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। ওড়িশার আগে কর্নাটকও অনুরূপ একটি আইন (২০২৫) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিল।
"ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল নিজের সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং সবার হয়ে লড়তে হবে।" - সুপ্রিম কোর্ট।
তথ্যসূত্র: সত্যসুন্দর বারিক, ভুবনেশ্বর