সর্বশেষ
সংবাদ লোড হচ্ছে...
United Bengal Sultanate

মেঘালয়ে আদিবাসী-বান্ধব ভোটার তালিকার দাবি: চাপে গারো হিলস জেলা পরিষদ

মেঘালয়ের গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদের (GHADC) নির্বাচনে অ-আদিবাসী ভোটারদের বাদ দিয়ে কেবল আদিবাসীদের নিয়ে পৃথক ভোটার তালিকা তৈরির দাবিতে সরব হয়েছে একাধিক সংগঠন। গত ১০ এপ্রিল এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সহিংসতার কারণে তা স্থগিত করা হয়।

সহিংসতার প্রেক্ষাপট: পশ্চিম গারো হিলস জেলার চিবি নাং এলাকায় অ-আদিবাসী প্রার্থীদের (প্রধানত বাংলাভাষী মুসলিম) মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। গত মার্চ মাসে পুলিশের গুলিতে দুই জন নিহত হন। এরপরই পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গারো স্টুডেন্টস ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন যৌথভাবে পরিষদের চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার ধর্মনাথ সিএইচ সাংমাকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তাদের দাবি, ষষ্ঠ তফশিলের মূল চেতনা রক্ষায় অ-আদিবাসীদের ভোটদান বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থাকা উচিত নয়। সংগঠনের এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, কেবল তফশিলি জনজাতি (ST) সার্টিফিকেট থাকলেই হবে না, বরং প্রকৃত অধিকার রক্ষায় কঠোর নির্বাচনী সংস্কার প্রয়োজন।

ভূমি আইন ও অধিকার রক্ষা

আদিবাসী সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে যে, ১৯৫৫ এবং ১৯৭২ সালের ভূমি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত এলাকায় অ-আদিবাসীদের জমি কেনার অধিকার নেই। কিন্তু আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই তা লঙ্ঘিত হচ্ছে। তারা অ-আদিবাসীদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা জরিমানার দাবিও জানিয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: GHADC-তে মোট ৩০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম গারো হিলস জেলার অন্তত পাঁচটি আসনে মুসলিম ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ। গত ২৪ মার্চ মেঘালয়ের রাজ্যপাল চন্দ্রশেখর এইচ বিজয়শঙ্কর একটি নতুন আইনে সম্মতি দিয়েছেন, যেখানে অ-আদিবাসীদের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদিবাসী সংগঠনগুলো এখন ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চালুর দাবি তুলছে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু (The Hindu)

শেয়ার করুন: Facebook Twitter WhatsApp
এলাকার খবর