ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলার কুসুম্ভা গ্রামে এক তেরো বছরের কিশোরীকে শ্বাসরোধ করে ‘বলি’ দেওয়ার অভিযোগে তার মা, এক তান্ত্রিক এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজারিবাগের এসপি অঞ্জনী অঞ্জন এবং ডিআইজি অঞ্জনী ঝা এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রেশমি দেবী তাঁর ছোট ছেলের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য প্রায়ই গ্রামের তান্ত্রিক শান্তি দেবীর কাছে যেতেন। তান্ত্রিক তাঁকে পরামর্শ দেন যে, ছেলেকে সুস্থ করতে হলে এক কুমারী মেয়েকে ‘বলি’ দিতে হবে।
গত ২৪ মার্চ অষ্টমীর রাতে, যখন পুরো গ্রাম রাম নবমীর উৎসবে মগ্ন ছিল, তখন শান্তি দেবীর বাড়িতে কিশোরীটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেশমি দেবী এবং ভীম রাম মিলে তাকে হত্যা করে বাগানে পুঁতে রাখেন। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা প্রথমে ধর্ষণের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছিল, কিন্তু ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে তা প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তে জাতীয় মহিলা কমিশন ও হাইকোর্ট
এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবে এবং ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।
এদিকে, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য প্রশাসন ও ডিজিপি-কে নোটিশ পাঠিয়েছে। গত ৩০ মার্চ এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হাজারিবাগে ১২ ঘণ্টার বনধ পালন করেছিল বিজেপি।
বিস্ময়কর তথ্য: ধৃত ভীম রামের বিরুদ্ধে এর আগেও তার ভ্রাতৃবধূসহ আরও একজনকে খুনের অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: পিটিআই (PTI)