পশ্চিমবঙ্গের মালদহে ভোটের আগে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া ভোটারদের “চিহ্নিত করে রাখার” আহ্বান জানান তিনি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় এক সভায় তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যারা বিরোধী দলগুলোকে ভোট দেবেন, তাদের তালিকা রাখা উচিত এবং ভোটের পর তাদের “দেখে নেওয়া” হবে।
সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্য
হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের সোনাকুল হাই মাদ্রাসায় তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুলবুল খান এই মন্তব্য করেন।
তার বক্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে ভোটারদের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি
নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বুলবুল খান বলেন, কংগ্রেস ও সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে শক্তিশালী করা।
তিনি দাবি করেন, “এখানে বিজেপি, তৃণমূল বা বাম—কেউই এককভাবে জিতবে না। আগেরবার জোট থাকা সত্ত্বেও ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধান ছিল। এবার আলাদা-আলাদা লড়াই হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যদি বিরোধীদের ভোট দেয়, তাহলে সেই ভোট নষ্ট হয়।”
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলকে ভোট দিলে সেই ভোটের “উপযুক্ত ব্যবহার” হবে এবং এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে মালদহসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে।
সূত্র: টিভি৯ বাংলা