আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। হজ এজেন্সি বা অন্য কারো প্ররোচনায় পড়ে কোনোভাবেই নিষিদ্ধ পণ্য বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ জানিয়েছে, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী হজযাত্রীর লাগেজে নেশাজাতীয় ওষুধ, তামাক পাতা, জর্দা, গুল, পানপাতা, শুটকি, রান্না করা খাবার এবং অন্যান্য পঁচনশীল দ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইনেও এসব নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবুও প্রতি বছর কিছু হজযাত্রী অসচেতনতার কারণে এসব নিয়ম ভঙ্গ করছেন, যা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর।
মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, বিগত বছরগুলোতে সৌদি বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বারবার সতর্ক করার পরও এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি হজযাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান, আইন মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে।
আইন ভাঙলে কী হতে পারে?
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানিয়েছেন, সৌদি আরবে কোনো হজযাত্রীর লাগেজে নিষিদ্ধ পণ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শুধু শাস্তিই নয়, এমন ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হজ পালনের সুযোগও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এমনকি হজ করার অনুমতিও বাতিল হতে পারে।
যাত্রা শুরু ১৮ এপ্রিল
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করবেন। আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের সৌদি গমন শুরু হবে।
তাই যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি লাগেজে কী নেওয়া যাবে আর কী নেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া জরুরি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সব মিলিয়ে, নিয়ম মেনে হজ পালনই নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রার মূল চাবিকাঠি—এমন বার্তাই দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আমার দেশ