শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

সহিংসতার ছায়া ত্রিপুরা এডিসি নির্বাচনে: বোমাবাজি ও সংঘর্ষে আহত একাধি

রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমাবাজি এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সহিংসতার খতিয়ান: সেপাহিজলা এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় সহিংসতার মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। অভিযোগ উঠেছে, তিপ্রা মোথা সমর্থকদের হামলায় সিপিআই(এম)-এর প্রাক্তন বিধায়ক প্রভাত চৌধুরী এবং বিজেপি বিধায়ক অভিষেক দেব রায়ের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সোনামুড়ার বক্সনগরে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।

বক্সনগরের বেহলুয়াচরে অন্তত ছয়টি বোমা ছোঁড়া হয়, যার মধ্যে দুটি পোলিং বুথের খুব কাছেই পড়েছিল। তিপ্রা মোথা অভিযোগ করেছে যে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিবাজারে বিজেপি ও তিপ্রা মোথা কর্মীদের সংঘর্ষে বেশ কিছু বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রশাসন ও ভোটার উপস্থিতি

রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসন ভোটদান প্রক্রিয়াকে মোটের ওপর ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তারক্ষীরা মৃদু লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হন। উল্লেখ্য, সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের অধীনে গঠিত এই পরিষদের ২৮টি আসনে বর্তমানে তিপ্রা মোথা, বিজেপি এবং বামফ্রন্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া কংগ্রেসও ছোট দুটি দলের সাথে জোট বেঁধে লড়াইয়ে রয়েছে।

মূল তথ্য: এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮ লক্ষ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, তিপ্রা মোথা প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন চৌধুরী নিজ নিজ প্রার্থীদের হয়ে হাই-ভোল্টেজ প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।

দক্ষিণ তাইবান্দাল এলাকায় ভুয়া ভোট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু (The Hindu) / এএনআই (ANI)

এলাকার খবর