১৯৫২ সালের পর এই প্রথমবার পুরুষদের তুলনায় ১.২ শতাংশ বেশি নারী ভোটার ইভিএম-এর বোতাম টিপেছেন। বিহারের পর এবার অসমেও নারীরা গড়লেন এক অনন্য নির্বাচনী রেকর্ড। কেবল শতাংশের হিসেবেই নয়, প্রকৃত সংখ্যাতত্ত্বের দিক থেকেও পুরুষদের পেছনে ফেলেছেন নারী ভোটাররা।
গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে পুরুষদের তুলনায় ১,৩৮,০১২ জন অধিক মহিলা ভোট দিতে বেরিয়ে আসেন। যেখানে ৮৫.৩৭ শতাংশ পুরুষ ভোট দিয়েছেন, সেখানে নারীদের ভোটদানের হার ছিল ৮৬.৫৪ শতাংশ। শতাংশের হিসেবে অসমের নারীরা ১.২ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ২,৪৯,৫৮,১৩৯ জন, যেখানে পুরুষ ভোটার নারীর তুলনায় ৬৭০০ জন বেশি। এই পরিসংখ্যান কি অসমের নারীদের রাজনৈতিক জাগরণ নাকি সরকারি প্রকল্পের প্রভাব—তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিচার-বিশ্লেষণ।
অসমে কি বিহারের পুনরাবৃত্তি?
বিহারে গত নির্বাচনে পুরুষদের তুলনায় ৪৩ লক্ষ পুরুষ ভোটার বেশি থাকা সত্ত্বেও ৩ লক্ষ বেশি নারী ভোট দিতে এসেছিলেন। নীতীশ কুমার নারী কেন্দ্রিক সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে যে 'সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' করেছিলেন, অসমেও কি তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে? অসমে একটি সমষ্টিতে যদি ৯০ হাজার নারী ভোটার থাকেন, তার মধ্যে ৩৫-৪০ হাজার নারী সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী। প্রশ্ন উঠেছে, এই সুবিধাভোগী ভোটাররা কি একতরফাভাবে শাসক দলের দিকে ঝুঁকেছেন?
বিহারে নীতীশ কুমার পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ এবং ছাত্রীদের সাইকেল বিতরণের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের একটি স্বতন্ত্র ভোটব্যাংক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। অসমেও আত্মসহায়ক গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পগুলো রাজনৈতিকভাবে বিশাল প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নাসারীবাদ বনাম সরকারি প্রকল্পের জোয়ার
শাসক দলগুলো কি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করে নারীদের ভোটব্যাংকে রূপান্তরিত করছে? সরকারি প্রকল্পের এই চমক কি নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে, নাকি তাদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলছে? অসমের রাজনৈতিক গতিপথ এখন এই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তথ্যসূত্র: নিউজ১৮ অসম