শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন নিয়ে বড় অভিযোগ, সিগন্যালও বিতর্কে: আসলে কতটা নিরাপদ আপনার মেসেজ?

Messaging Apps Security
জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগের মাধ্যম—হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল আর টেলিগ্রাম। কিন্তু এই জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরভ সরাসরি দাবি করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নাকি “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কনজ্যুমার ফ্রড”।

দুরভের শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মেটা, হোয়াটসঅ্যাপ এবং কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেঞ্চারের বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের সোর্স কোডে একটি সম্ভাব্য ব্যাকডোর বা গোপন চোরাপথ রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে এনক্রিপশন বাইপাস করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা পড়া সম্ভব।

যদিও মেটা বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম শতভাগ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড এবং শুধুমাত্র প্রেরক ও প্রাপকই বার্তা পড়তে পারে, তবে মামলার অভিযোগ এই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া ডেটা অ্যাক্সেসের সম্ভাবনা থাকলে সেটি এনক্রিপশনের মূল দর্শনের সাথেই যায় না—এমনটাই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

সিগন্যাল: নিরাপত্তার প্রতীক, তবুও প্রশ্ন কেন?

শুধু হোয়াটসঅ্যাপই নয়, নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত সিগন্যাল অ্যাপও এবার বিতর্কে জড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মামলায় এফবিআই একজন সন্দেহভাজনের আইফোন থেকে ডিলিট করা সিগন্যাল মেসেজ উদ্ধার করেছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—এটি সিগন্যালের এনক্রিপশন ভাঙার ঘটনা নয়। বরং আইফোনের নোটিফিকেশন স্টোরেজ সিস্টেম ব্যবহার করেই এই তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

আইফোনে যদি লক স্ক্রিনে মেসেজ প্রিভিউ চালু থাকে, তাহলে অ্যাপ মুছে ফেলার পরও সেই নোটিফিকেশনের ডেটা ডিভাইসের অভ্যন্তরীণ মেমোরিতে থেকে যেতে পারে। ফরেনসিক টুল ব্যবহার করে সেখান থেকেই মেসেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

টেলিগ্রাম কি সত্যিই বেশি নিরাপদ?

এই সুযোগে পাভেল দুরভ দাবি করেছেন, টেলিগ্রামের “সিক্রেট চ্যাট” ফিচার তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ, কারণ সেখানে নোটিফিকেশনে কখনোই মেসেজ কন্টেন্ট দেখানো হয় না।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, টেলিগ্রামের ডিফল্ট চ্যাট কিন্তু এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড নয়। ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে “সিক্রেট চ্যাট” চালু করতে হয়, যা অনেকেই ব্যবহার করেন না।

বাস্তবতা: কোনো অ্যাপই শতভাগ নিরাপদ নয়

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে—নিরাপত্তা শুধু অ্যাপের ওপর নির্ভর করে না, পুরো ডিভাইস ও অপারেটিং সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে।

ডিভাইসের ফিজিক্যাল অ্যাক্সেস পাওয়া গেলে উন্নত ফরেনসিক টুল ব্যবহার করে যেকোনো অপারেটিং সিস্টেম থেকেই সংবেদনশীল তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব।

তাই ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা—লক স্ক্রিনে মেসেজ প্রিভিউ বন্ধ রাখা, নিরাপত্তা সেটিংস ঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত ডিভাইস সুরক্ষিত রাখা।

সব মিলিয়ে, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এই নতুন বিতর্ক আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা শুধু একটি ফিচার নয়, এটি একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।


সূত্র: প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন

এলাকার খবর