শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

বঙ্গভোট ২০২৬: বিজেপিতে যাওয়া ছিল 'ঐতিহাসিক ভুল', ভোটের মুখে তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে বড়সড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। ২০২৩ সালে বিজেপি ত্যাগ করা এই নেতা এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং কীর্তি আজাদের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন।

বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ: তৃণমূলে যোগ দিয়েই চন্দ্র বসু বলেন, "কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছিল আমার এক ঐতিহাসিক ভুল। আজ তৃণমূলে যোগ দিয়ে সেই ভুল সংশোধন করলাম। বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সাথে বিজেপির কোনো মিল নেই।"

চন্দ্র বসু অভিযোগ করেন যে, বিজেপি নেতাজির আদর্শে বিশ্বাস করে না এবং তাদের সাথে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে আমরা দেশে যে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা এবং বিভাজনের রাজনীতি দেখছি, তা বিজেপিই নেতৃত্ব দিচ্ছে। এবারের লড়াই ভারতকে রক্ষা করার এবং এই বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করার লড়াই।"

ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরব

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চন্দ্র বসু পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত সরব ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে সুশীল সমাজ প্রতিবাদ করছে না। এমনকি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: চন্দ্র কুমার বসু ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০২৩ সালে তিনি দল ত্যাগ করেন। এর আগে নেতাজির পরিবারের সদস্য কৃষ্ণা বসু এবং ইতিহাসবিদ সুগত বসুও তৃণমূলের হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

চন্দ্র বসুর এই যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে ব্রাত্য বসু বলেন, "বিজেপির ভাষায় বলতে গেলে একেই বলে 'ঘর ওয়াপসি'। একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ স্থানেই ফিরে এসেছেন।" আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: কলকাতা নিউজ ডেস্ক

এলাকার খবর