একটি সিএনজি অটোরিকশার প্রকৃত বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা হলেও ঢাকার রাস্তায় তা নামাতে খরচ পড়ছে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টাকা। আমদানিকৃত গাড়ির চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এই বাহনটি। মূলত নতুন নিবন্ধন বন্ধ থাকা এবং পুরোনো নম্বর প্লেট নিয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণেই সাধারণ চালকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে এই ‘পরিবেশবান্ধব’ যান।
কেন এই আকাশচুম্বী দাম?
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, নতুন করে সিএনজির নিবন্ধন দেওয়া প্রায় বন্ধ। একটি সিএনজির ১৫ বছরের আয়ুষ্কাল শেষ হলে কেবল ওই মালিককেই ‘রিপ্লেসমেন্ট’ বা প্রতিস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দালাল ও অসাধু মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। ফলে একটি পুরোনো নম্বর প্লেট কিনতেই কালোবাজারে ব্যয় হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে বৈধ সিএনজির সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৯৬টি। অথচ গত দুই দশকে শহরের জনসংখ্যা ও আয়তন বাড়লেও বাহনের সংখ্যা বাড়েনি। চালক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শেখ হানিফ জানান, যেখানে নম্বর প্লেটের সরকারি ফি মাত্র ১২ হাজার ৪৩৯ টাকা, সেখানে সিন্ডিকেটের কারণে তা লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিফকেস পার্টি ও মালিকদের কব্জায় পুরো খাত
সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ ভুলু বলেন, "মানুষের হাতে এখন অনেক অবৈধ টাকা রয়েছে। সেই টাকা বৈধ করতে অনেকেই সিএনজি ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন। বর্তমানে ঢাকার প্রায় ১৫ হাজার সিএনজির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাত্র এক হাজার মালিকের হাতে।" এই স্বল্পসংখ্যক মালিক নিয়ন্ত্রণ করছেন প্রায় ৫০ হাজার চালককে, যাদের কোনো বৈধ নিয়োগপত্র নেই।
আসছে নতুন এক হাজার সিএনজি
বিআরটিএ-র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীর সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখে আরও এক হাজার নতুন সিএনজি অটোরিকশার নিবন্ধনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলে দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট / বিআরটিএ