শিরোনাম
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

সুরের জগতে নেমে এলো শোক: আর নেই কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে

ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সুরের এই সম্রাজ্ঞী।

জানা গেছে, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

তার মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বয়সজনিত নানা সমস্যায় ভুগলেও শেষ বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন সক্রিয় এবং নিয়মিত সংগীতচর্চা ও কনসার্টে অংশগ্রহণ করতেন।

সুরের দীর্ঘ যাত্রা

আশা ভোঁসলের সংগীত জীবন শুরু হয় ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘মাঝে বাল’-এর মাধ্যমে। এরপর ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ ছবির ‘সাওন আয়্যা’ গান দিয়ে বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, অসমীয়া, গুজরাটি সহ একাধিক ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন।

অসংখ্য সম্মাননা

ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য আশা ভোঁসলে পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং পদ্ম বিভূষণসহ বহু সম্মানজনক পুরস্কার।

তার গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্যে রয়েছে—‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘ঝুমকা গিরা রে’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘দিল চীজ ক্যা হ্যায়’, ‘ও মেরে সোনা রে’ এবং ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি’।

অসমের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক

আশা ভোঁসলের সঙ্গে অসমেরও ছিল বিশেষ সম্পর্ক। সংগীতসূর্য ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে তিনি একাধিক সংগীত ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

তার কণ্ঠে গাওয়া ‘এই ধুনিয়া গোধূলি লগন’, ‘ও বিদেশী বন্ধু’সহ বেশ কিছু অসমীয়া গানও শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, আশা ভোঁসলের মৃত্যু শুধু একটি শিল্পীর বিদায় নয়—এটি ভারতীয় সংগীতের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান।


সূত্র: সংগৃহীত

এলাকার খবর